Pages

Wednesday, July 10, 2019

বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস



July 15  বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস। একজন যুবকের দক্ষতা অর্জন গুরুত্বপুর্ণ বলেই এমন বিষয় নিয়ে বিশ্ব দিবস পালন করার প্রয়োজন হয়।

ইদানিং আমার কিছু শ্রেণীর মানুষের উপর বিরক্ত ধরেছে। এগুলো হলো, ফেসবুক বাঙালী মুসলমান, কিছু নারীবাদি ও একটি বড় অংশের তরুণ সমাজ। এই বাঙালী মুসলমান সমাজটি মনে করবে আজ তারা চাইলেই জ্ঞান-বিজ্ঞান, ক্ষমতায় এগিয়ে থাকতে পারত কিন্তু ইহুদী-নাসারার চক্রান্তের জন্য কিছু করতে পারলনা। কিছু নারীবাদি মনে করে, একমাত্র পুরুষের কারণে তারা জীবনে কিছু অর্জন করতে পারেনি, তা না হলে একেকটা মাদাম কুরী হয়ে যেত। আরেকটি হলো তরুণ সমাজ। এরা মনে করে মামা-চাচা থাকলে অথবা সরকার সাহায্য করলে তারা ফাটিয়ে দিত। কিন্তু সত্য কথা হলো অন্যর দোষ ধরা বাদ দিয়ে যদি ওই সময়টুকু নিজের দক্ষতা অর্জনে ব্যয় করতো তাহলে আজ তাকে হা-হুতাশ করতে হতো না।

এই দেশে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে যাদের পড়াশোনা মানেই একটা সার্টিফিকেট অর্জন। এরা মনে করে সার্টিফিকেটই জীবনের সব। এদের মধ্য আবার বড় অংশ ওই সার্টিফিকেট অর্জন করতে গিয়ে ওই সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ট পড়াশোনাটাও ঠিক মত করতে পারেনা। ঠিক মত শুধু একটি কাজই পারে, তা হলো অন্যর দোষ দেয়া। এই দেশে হাজার হাজার ছেলে মেয়ে রয়েছে অনার্স মাস্টার্স করেছে, অথচ নুন্যতম ইংরেজিও পারেনা, কম্পিউটারে দক্ষনা, কমিউনিকেশনে ভালনা। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের বা পরবর্তী সময়ে আড্ডা, ‍মুভি দেখা, ফেসবুকিং করাই জীবনের মুল্য উদ্দেশ্যে হয়েছে। কিন্তু চাকরীর মার্কেটের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেনি। গত বছর ভারতের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সিইও বলেছিলেন, আমরা চাকরী নিয়ে বসে আছি, অথচ দক্ষ ছেলে মেয়ে নেই। ভাইভাতে সহজ সরল বিষয়ের উত্তর দিতে পারেনা। আমাদের দেশে এই অবস্থা ভারতের চেয়ে আরও ভয়াবহ।

আচ্ছা টম হ্যাংকস এর কাস্ট অ্যাওয়ে সিনেমাটি দেখেছেন? ধরুন, টম হ্যাংকসের মত আপনি একা নির্জন কোন দ্বীপে গিয়ে পড়লেন, তাহলে আপনি কি করবেন? সিনেমার নায়কের মত কি বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন নাকি আত্মহত্যা করবেন? বেঁচে থাকুন আর আত্মহত্যায় করুন আপনাদের দুজনের জন্যই কিছু কথা বলতে চাই।

সম্ভবত ৭০-৮০ দশ‌কের সি‌নেমা হ‌বে, সাদাকা‌লো সিনেমা। সিনেমা‌তে নায়ক বলছে, এই দূর্মুল্যের বাজারে চাক‌রি পাওয়ায় ক‌ঠিন। এমন অসংখ্য সাদাকালো সিনেমা দেখা যাবে যেখানে নায়ক, মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেও বেকার ঘুরে বেড়ায়। আবার আমার কাছে ১৯০১ সা‌লের এক‌টি বাংলা বই আ‌ছে, যে বইয়ের ভু‌মিকায় লেখা আছে, এই দুর্মল্যের বাজারে কাগজের দাম বৃ‌দ্ধি পে‌য়েছে তাই বইয়ের দামও বৃ‌দ্ধি করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য বইয়ের দাম লেখা আছে ১ টাকা। প্রায় ২শত পৃষ্ঠার বই।

চাকরীর বাজার খারাপ, জি‌নিস পত্রের দাম বে‌শি এগু‌লো আ‌দি কাল থেকেই ছিল। যে‌দিন থেকে অর্থনী‌তি নামক শ‌ব্দের উৎপ‌ত্তি হয়েছে সে‌দিন থেকেই এই ঝামেলা শুরু হয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হয় পৃথিবীতে যদি ১০০ কোটি মানুষ থাকত তাহলে হয়ত এত সমস্যা হতো না। কিম্বা এত মানুষ থেকেও যদি ধনী দরিদ্রের পার্থক্য না থাকত তাহলেও হয়ত এত সমস্যা হতো না।

ফেসবুকে নিয়মিত দেখি, চাকরি নাই, চাকরি চাই। এমনকি ইনবক্সেও কেউ কেউ চাকরির জন্য বলেন! কেউ কেউ বলেন, মামা চাচা নাই তাই চাকরি নাই। এই যে নাই নাই, হতাশার কথা যত বলবেন তত নিজেকে পিছিয়ে ফেলবেন। অমুক নাই, তমুকের দোষ এর কথা বলবেন, কিন্তু ততক্ষণে যদি নিজের দোষ দেখেন বা নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে সময় বের করেন তাহলে আপনার জন্য আরও ভাল, আপনি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।

আচ্ছা এই যে, এত এত ছেলে মেয়ে জব মার্কেটে জব করছে সবাই কি মামা চাচার জন্য এসেছে? যদি মনে করেন এসেছে তাহলে বড় ভুল বলছেন। মামা চাচা ছাড়া চাকরি পেয়েছে এমন লিস্ট যদি আপনাকে দিই আপনাকে এক্সএল নিয়ে বসতে হবে, ও এক্সএল হ্যাং করে বসবে। কথায় কথায় মামা চাচার কথা বলা মানে হলো, যারা মামা চাচা ছাড়া জব পেয়েছে তাদের ছোট করে দেখা। তাও ধরার খাতিরে ধরে নিলাম মামা চাচার বদৌলতে চাকরি পেয়েছে। মামা চাচা বলতে তো আর মামা চাচা না, মানে পরিচিত মাধ্যম। আপনি কি জানেন কমিউনিকেশন কি জিনিস? বর্তমানে কমিউনিকেশন এতটাই শক্তিশালী যে আপনার অন্য যোগ্যতাও অনেক সময় তুচ্ছ হয়ে যায়। আপনি কোন কাজে অদক্ষ, কিন্তু ভাল কমিউনিকেশনের কারণে আপনি অদক্ষ হয়েও ভাল জায়গায় চলে যেতে পারেন। আজ আপনি অদক্ষ, কিন্তু দুই দিন পর দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু আপনি দক্ষ, আপনার কমিউনিকেশন লেবেল ভাল না, তাহলে প্রচুর সুযোগই আপনি হারাতে পারেন। সময় এসেছে, কমিউনিকেশনকে সালাম দিন, কমিউনিকেশনকে গুরুত্ব দিন। কমিউনিকেশনও এক প্রকার দক্ষতা।

আরেকটি বিষয় আপনারা বলেন, মামা-চাচা। যে মানুষটি পরিশ্রম করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা দাঁড় করিয়েছে, সে কি চাইবে, তার প্রতিষ্ঠানে আত্মীয়তার সুযোগে সব অদক্ষ ছেলে মেয়ে ঢুকে পড়ুক? এমন অদক্ষ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে প্রতিষ্ঠান সাজালে সেই প্রতিষ্ঠান বেশি দিন টিকবে? মামা-চাচার হিসেব বাদ দিয়ে দক্ষতা অর্জন করুন।

দুজন বন্ধু। দুজনের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস প্রায় একই রকম। দুজনের একাডেমিক রেজাল্টও কাছাকাছি। এর মধ্য একজন তার সাবজেক্টকে ভালবেসে সাবজেক্ট রিলেটেড আরও অনেক জ্ঞাণ অর্জন করেছে, নিজেকে আরও আপগ্রেড করেছে। আরেক বন্ধু ওই ভার্সিটিতে পাশ করতে যতটুকু পড়তে হয় ততটুকু পড়েছে, এর বাইরে শুধু মুভি দেখে কাটিয়েছে। রেজাল্টের বাইরে তার সাবজেক্ট রিলেটেড বা অন্য বিষয়ে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলেনি। এখন আমাকে বলেন, এই দোষ কার? স্বাভাবিক ভাবেই যে বন্ধু নিজেকে যোগ্য করে তুলেছে সে ভাল পজিশনে আছে।

বেশির ভাগই পাশ করার জন্য পড়েন। পাশ করার জন্য পড়ার দিন শেষ। নিজেকে আপগ্রেড করতেই হবে। না হলে ওই মামা চাচার গাল গপ্প করে লাইফটা নষ্ট করতেই হবে।

আরেকটি বিষয় হলো চাকরীই কেন করতে হবে? ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা করার কথা বললে বলবেন, টাকা নেই। এরপর বলবেন, গরীব মানুষ ব্যবসা করতে পারবনা। সব বড়লোকরাই ব্যবসা করে।

এই সব নাই নাই, হা হুতাশ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। চারিপাশে গরীব থেকে পরিশ্রম করে এত বড়লোক হওয়ার উদাহরণ পাবেন যে সেগুলোকে উদাহরণ হিসেবে ধরতেও লজ্জা লাগবে। আশেপাশে প্রচুর মানুষ রয়েছে, প্রচুর। আপনি যখন নাই, নাই হা হুতাশ করে টাইম নষ্ট করছেন তখন অন্য কেউ পরিশ্রম করছে। কাজ করতে হবে। কাজের বিকল্প নেই। নিউজে এসেছে ক্ষমতাশালীরায় বিশ্বের বেশি সম্পদ দখল করে আছে। আমি বলি, আমরাই তাদের এই সুযোগগুলো দিচ্ছি। আমরা বিজনেসে নামছি না বলেই তারা সম্পদের পাহাড় গড়ছে। ভাই নামতে হবে। টম হ্যাংকস এর মত টিকে থাকবেন নাকি ভিতুর মত হেরে যাবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জীবনে ঝামেলা থাকবেই। প্রথমে ১০০০ টাকা লাভ করবেন। এরপর ৫০০ টাকা লাভ করবেন। এরপর ৮০০ টাকা লস করবেন। আবার ৬০০ টাকা লস করবেন। এরপর হয়ত ৫০০০ টাকা লাভ করবেন। এতটুকু মনে রাখেন, এই দেশে বিজনেসের অনেক সুযোগ আছে। সেই সুযোগটা আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে। কাউরে বললে হবেনা, যে ভাই আমার কাছে ৫০০০০ টাকা আছে, কি বিজনেস করব? পথে নামতে হবে। পথে নামলে পথ চেনা যায়। আপনার ফ্যামিলি হয়ত শুরুতে আপনাকে টাকা দিবেনা। কোন ভাবে একবার যদি দেখায়ে দিতে পারেন যে আপনি বিজনেসে ভাল করছেন, দেখবেন সেই ফ্যামিলিই আপনাকে সুরসুর করে টাকা দিবে। তার জন্য রিস্ক নিতেই হবে। যদি চাকরিও করতে চান, তাহলেও শুরুতে ৭-৮ হাজার দিয়ে চাকরি কি জিনিস, বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। শিখতে হবে। চাকরির মার্কেটেও দেখেছি, এই বর্তমান সময়েও ভাল জায়গা থেকে বিবিএ করে ৬ হাজার টাকার বেতনের চাকরি শুরু করেছে। সেই মানুষই ৬ বছরের মাথায় ৬০ হাজারের উপর আয় করেন। ভাই শুরুটা করতে হবে। নাক শিটকানো বন্ধ করতে হবে। এর ওর দোষ দেয়া বন্ধ করতে হবে। মনে করতে হবে, টম হ্যাংকস এর মত নির্জন দ্বীপে পড়েছেন। আপনার কোন সঙ্গী নেই। এই যুদ্ধ নিজের সাথে নিজের যুদ্ধ।

এই যুদ্ধ যদি না করেন, তাহলে এই বিজ্ঞাপনের মত অ্যাসিসটেন্ট ফটোকপিয়ার হোন। এখন সময় এসেছে, সিরিয়াস হওয়ার। সিরিয়াস হোন। দক্ষতা অর্জন করুন।

No comments:

Post a Comment

Disclaimer

Disclaimer: All the information on this website is published in good faith and for general information purpose only. Some content i...